জীবনী: জীবনানন্দ দাশ
জীবনী: জীবনানন্দ দাশ
জীবনানন্দ দাশ বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান আধুনিক কবি। তাঁকে "রূপসী বাংলার কবি" বলা হয়। বাংলা কাব্যে স্বতন্ত্র আধুনিকতা আনয়নের জন্য তিনি বিশেষভাবে পরিচিত।
জন্ম ও শিক্ষা:
জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম সত্যানন্দ দাশ এবং মায়ের নাম কুসুমকুমারী দাশ। তিনি কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
সাহিত্যজীবন:
জীবনানন্দ দাশের কবিতা প্রকৃতি ও নিসর্গচিত্রে ভরপুর। তাঁর কবিতায় নির্জনতা, নিসর্গপ্রেম এবং এক প্রকার দার্শনিক গভীরতা দেখা যায়। রবীন্দ্রোত্তর যুগের বাংলা কাব্যে তিনি এক নতুন ধারা তৈরি করেন।
প্রধান কবিতা ও কাব্যগ্রন্থ:
- ধূসর পান্ডুলিপি (১৯৩৬)
- বনলতা সেন (১৯৪২)
- মহাপৃথিবী (১৯৪৪)
- সাতটি তারার তিমির (১৯৪৮)
- রূপসী বাংলা (১৯৫৭, মরণোত্তর প্রকাশিত)
উপন্যাস:
- মাল্যবান (মরণোত্তর প্রকাশিত)
- সুতীর্থ
নাটক:
- জলপাই হালদার
তাঁর সাহিত্যিক বৈশিষ্ট্য:
- প্রকৃতির অপূর্ব চিত্রায়ণ
- নির্জনতার প্রতিফলন
- অলঙ্কারবিহীন শব্দচয়ন
- গভীর দার্শনিকতা
মৃত্যু:
১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতার এক ট্রাম দুর্ঘটনায় তিনি মারাত্মক আহত হন এবং পরে হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।
উপসংহার:
জীবনানন্দ দাশ বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। তাঁর কবিতা বাংলা সাহিত্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। প্রকৃতি ও মানুষের সংযোগ তাঁর কবিতায় এক অনন্য মাত্রায় উপস্থাপিত হয়েছে।
Comments