মানুষ কান ফাটানো শব্দেও ঘুম থেকে কেন জাগে না? (Why Don't People Wake Up from Loud Noises During Sleep?)
মানুষ কান ফাটানো শব্দেও ঘুম থেকে কেন জাগে না? (Why Don't People Wake Up from Loud Noises During Sleep?)
অনেক সময় আমরা লক্ষ্য করি, আশেপাশে অনেক শব্দ হলেও কেউ কেউ সহজে ঘুম থেকে জাগে না। আবার কেউ সামান্য শব্দেও চট করে জেগে ওঠে। এটি আমাদের মস্তিষ্কের কাজের ধরন এবং ঘুমের বিভিন্ন স্তরের ওপর নির্ভর করে। বিজ্ঞানীরা ঘুমের সময় মস্তিষ্কের সক্রিয়তা এবং শব্দ গ্রহণ ক্ষমতার পার্থক্য সম্পর্কে নানা গবেষণা করেছেন।
কান ফাটানো শব্দেও ঘুম না ভাঙার কারণসমূহ:
- ঘুমের চক্র: আমাদের ঘুম প্রধানত দুটি অংশে বিভক্ত—আরইএম (REM) এবং নন-আরইএম (Non-REM)। গভীর নন-আরইএম ঘুমের সময় মস্তিষ্ক বাইরের শব্দে খুব কম সাড়া দেয়, ফলে উচ্চ শব্দেও মানুষ জাগে না।
- মস্তিষ্কের শব্দ ফিল্টারিং: ঘুমের মধ্যে আমাদের মস্তিষ্ক শব্দ বিশ্লেষণ করে এবং অপ্রয়োজনীয় শব্দ এড়িয়ে যায়। দৈনন্দিন শব্দ বা পরিবেশে অভ্যস্ত হলে মস্তিষ্ক এগুলোকে গুরুত্ব দেয় না।
- গভীর ঘুমের প্রভাব: শরীরের ক্লান্তি এবং ঘুমের গভীরতা বাড়লে জাগ্রত হওয়া কঠিন হয়। অনেক সময় অত্যধিক ক্লান্তি মানুষকে গভীর ঘুমে নিয়ে যায়, যেখানে উচ্চ শব্দও ঘুম ভাঙাতে পারে না।
- বংশগত কারণ: কিছু মানুষের জিনগত বৈশিষ্ট্যের কারণে তাদের মস্তিষ্ক ঘুমের সময় সহজে সাড়া দেয় না। ফলে উচ্চ শব্দও তাদের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে না।
- মানসিক অবস্থা: মানসিক চাপ, উদ্বেগ বা হতাশা থাকলে ঘুমের প্যাটার্ন পরিবর্তিত হয় এবং গভীর ঘুমের পর্যায়ে সহজে শব্দে ঘুম ভাঙে না।
- শারীরিক অবস্থা: কিছু শারীরিক অবস্থার কারণে যেমন স্লিপ অ্যাপনিয়া বা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটানো রোগ থাকলে উচ্চ শব্দেও জাগ্রত হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
- ওষুধের প্রভাব: ঘুমের ওষুধ বা সেডেটিভ জাতীয় ওষুধ গ্রহণ করলে মস্তিষ্কের প্রতিক্রিয়া হ্রাস পায়, ফলে শব্দ শুনেও সহজে ঘুম ভাঙে না।
গভীর ঘুমে শব্দ কেন কম প্রভাব ফেলে?
- মস্তিষ্কের "থ্যালামাস" অংশটি বাইরের তথ্য বিশ্লেষণ করে। গভীর ঘুমে এই অংশটি কম সক্রিয় থাকে, তাই শব্দ সহজে অনুভব হয় না।
- আরইএম ঘুমে মস্তিষ্ক বেশি সক্রিয় থাকে, কিন্তু তখনও এটি গুরুত্বপূর্ণ নয় এমন শব্দ উপেক্ষা করতে পারে।
- মানুষের ঘুম চক্র ৯০-১১০ মিনিটের মধ্যে পরিবর্তিত হয়। গভীর ঘুমের পর্যায়ে শব্দের প্রতিক্রিয়া কমে যায়।
শব্দে সহজে ঘুম না ভাঙার উপায়:
- প্রয়োজনীয় ঘুম নিশ্চিত করতে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো ও জাগা।
- অতিরিক্ত শব্দ এড়াতে সাউন্ডপ্রুফিং ব্যবহার করা।
- ঘুমের পরিবেশ শান্ত ও আরামদায়ক রাখা।
- ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে এমন ক্যাফেইন ও নিকোটিন এড়িয়ে চলা।
- যদি ঘুমে সমস্যার সম্মুখীন হন, তবে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করা।
সর্বোপরি, ঘুমের মধ্যে শব্দে জাগা বা না জাগা মূলত মস্তিষ্কের প্রতিক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও ঘুমের নিয়ম মেনে চললে এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
Comments