ভাবসম্প্রসারণ: জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর
ভাবসম্প্রসারণ: জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর
মূলভাব:
সৃষ্টিকর্তার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের সেরা উপায় হলো জীবের প্রতি প্রেম এবং সহানুভূতি প্রদর্শন। যে ব্যক্তি জীবজগতের প্রতি দয়া ও ভালোবাসা দেখায়, সে প্রকৃতপক্ষে ঈশ্বরের প্রতি শ্রদ্ধা জানায় এবং তাঁর সেবা করে।
সম্প্রসারিত ভাব:
"জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর"—রামকৃষ্ণ পরমহংসের এই অমর উক্তি মানবধর্মের সর্বোচ্চ আদর্শকে তুলে ধরে। ঈশ্বর কেবল মন্দির, মসজিদ বা উপাসনালয়ে বিরাজমান নন; তিনি প্রতিটি জীবের মধ্যে অবস্থান করেন। সুতরাং জীবের প্রতি দয়া, মমতা এবং সহানুভূতি প্রদর্শনই প্রকৃত ধর্ম ও ঈশ্বরের সেবা।
এটি কেবল ধর্মীয় বিশ্বাস নয়, এটি মানবিকতারও নিদর্শন। একজন প্রকৃত মানুষ তখনই স্রষ্টার প্রকৃত উপাসক হতে পারে, যখন সে সৃষ্টির প্রতি মমত্ববোধ এবং সহানুভূতি দেখায়। যেমন একজন ক্ষুধার্ত মানুষকে খাদ্য দেওয়া, একজন অসহায়কে সাহায্য করা, কিংবা কোনো প্রাণীর প্রতি স্নেহ দেখানো—এসব কাজের মাধ্যমে স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো যায়।
সৃষ্টিকর্তা আমাদের সৃষ্টিকে ভালোবাসতে এবং তাদের সুখ-দুঃখে পাশে থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন। যদি আমরা জীবজগতের প্রতি নিষ্ঠুর হই বা তাদের প্রতি উদাসীন থাকি, তবে তা ঈশ্বরের আদেশ অমান্য করার শামিল। সমাজে যদি প্রতিটি মানুষ একে অপরের প্রতি প্রেম ও সহানুভূতি দেখায়, তবে সমাজ হবে সুখী ও শান্তিময়।
মন্তব্য:
জীবের প্রতি প্রেম এবং দয়ার মধ্যেই প্রকৃত ধর্মের সৌন্দর্য নিহিত। স্রষ্টাকে খুঁজতে উপাসনালয়ে ছুটে যাওয়ার আগে আমাদের উচিত জীবজগতের প্রতি মমতা ও সহানুভূতি প্রদর্শন করা। কারণ, জীবের প্রতি প্রেমই ঈশ্বরের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা ও সেবা।
Comments